![]() |
| শেয়ার সূচকের গতি |
করোনাভাইরাসের মহামারীর প্রকোপে চলছে দেশজুড়ে লকডাউন। বাজার-ঘাট, দোকানপাট, গাড়ি-ঘোড়া, কল-কারখানা, অফিস-আদালত, স্কুল-কলেজ সব বন্ধ। অর্থাৎ সবকিছু স্তব্ধ হয়ে গেছে। মার্কেট বাজার গুলো স্তব্ধ হয়ে গেছে, বন্ধ হয়ে গেছে বিক্রি বাটা বা কমে গেছে। পরিবহনে যাত্রী নেই। সমস্ত সংস্থা কোম্পানি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান যাবতীয় সবকিছুই স্তব্ধ হয়ে গেছে, বন্ধ হয়ে গেছে। অর্থাৎ সেই সব প্রতিষ্ঠান বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বা ব্যবসার ব্যবসা-বাণিজ্য লেনদেন সবকিছুই বন্ধ হয়ে গেছে দেশের অর্থনৈতিক মন্দার প্রভাবে। এবং কিছু কিছু ক্ষেত্রে মুখ থুবড়ে পড়েছে। শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছে, দিনমজুররা বেকার হয়ে পড়েছে। কাজকর্ম নেই, ব্যবসা-বাণিজ্য নেই, কেনাকাটা নেই। আর্থিক লেনদেন বন্ধ। বড় বড় পুঁজিপতিরা ফ্ল্যাট তৈরি করে বসে আছে, কিন্তু খরিদ্দার নেই। শপিং মল বন্ধ। পোশাক-পরিচ্ছদ, দৈনন্দিন ব্যবহার্য জিনিসপত্রের সব দোকানপাট বন্ধ। প্যাসেঞ্জার নেই। গাড়ি ঘোড়া চলছে না। পেট্রোল পাম্পে তেল নেওয়ার চাহিদা কমে গেছে, তেলের চাহিদা কমে গেছে। তেলের বাজার পড়ে গেছে। ট্রান্সপোর্টের বাজার পড়ে গেছে। বিমান চলছে না, তাই বিমান ব্যবসাতেও মন্দা। এই যে বিভিন্ন সেক্টর, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ব্যবসা বন্ধ হয়ে আছে বা কমে গেছে অনেকাংশেই, এর ফলে কি হচ্ছে ? প্রতিষ্ঠানগুলোর বা কোম্পানিগুলোর শেয়ার মার্কেটে শেয়ারের দাম অনেকটাই কমে গেছে। যে শেয়ারের দাম হয়তো দু-তিন মাস আগে 400 টাকা ছিল, তার দাম হয়তো এখন দেড়শ টাকা বা 200 টাকা। যে শেয়ারের দাম তিন হাজার টাকা ছিল সেই শেয়ারের দাম এখন হয়তো 1800 টাকা। ফলে এই শেয়ারগুলো এখন অনেক কম দামে কিনতে পাওয়া যাবে, এবং এখন কম দামে কিনে রাখলে লকডাউন যখন উঠে যাবে, মহামারী পার হয়ে যাবে, বাজারঘাট, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, আমদানি-রপ্তানি, পরিবহনব্যবস্থা,কলকারখানা,দোকানবাজার সবকিছুই যখন আবার স্বাভাবিক হয়ে যাবে তখন এই শেয়ার গুলোর দাম আবার বাড়বে। হয়তো দু তিন মাসের মধ্যে এই সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসা যাবে। তখন শেয়ার গুলোর দাম হয়তো দ্বিগুণ বেড়ে যাবে। এখন কম দামে কিনে রাখা শেয়ারগুলো তখন বিক্রি করে দিলে অনেক বেশি টাকা লাভ করা যাবে। তাই হাতে যদি যথেষ্ট পরিমাণে টাকা থাকে, তবে তা খামোখা ব্যাংকে ফেলে না রেখে শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করলে অনেক লাভবান হওয়া যাবে। তবে শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ যেহেতু খুব ঝুঁকিপূর্ণ,তাই বুঝেশুনে পা ফেলতে হবে। কেবল সেই টাকাই বিনিয়োগ করুন যে টাকা চোট গেলেও আপনাকে বিশেষ ক্ষতির মুখে পড়তে হবে না। কিন্তু লাভ হলে সে টাকাতেই অনেক লাভ উঠে আসবে। আবশ্যক প্রয়োজনের টাকা শেয়ারবাজারে কখনোই বিনিয়োগ করবেন না।
বর্তমানে বাজার যে জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে তার থেকে আরো নীচে নামতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তাই হুটহাট বিনিয়োগ করে না বসে একটু সাবধানে এগোনো উচিত বলে মনে করি।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন