কৌন বনেগা ক্রোড়পতি - অমিতাভ বচ্চনের সেই টিভি শো এর কথা নিশ্চয়ই মনে আছে। কে না হতে চায় কোটিপতি যদি সুযোগ পাওয়া যায়। অমিতাভ বচ্চনের এই টিভি শো অনেককেই কোটিপতি হওয়ার স্বপ্ন দেখিয়েছিল, অনেকের স্বপ্ন সার্থক করেছিল। কিন্তু কোটিপতি হওয়ার এরকম সুযোগ কয়জনের পক্ষেই বা পাওয়া সম্ভব ? কিন্তু অনেকেই তো স্বপ্ন দেখেন কোটিপতি হওয়ার। সত্যই কি সেই স্বপ্ন পূরণের কোন সহজ রাস্তা আছে ? বিশেষ করে মধ্যবিত্ত বা নিম্ন মধ্যবিত্ত মানুষের পক্ষে কোটিপতি হাওয়া কি আদৌ সম্ভব ? এর উত্তর হচ্ছে সম্ভব। আর সেই স্বপ্নকে সম্ভব করে তোলার চমৎকার দুটি উপায় হচ্ছে শেয়ার বাজার ও মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ করা। এটাকে অতি সহজ রাস্তা ভাবলে চলবে না। তবে খুব কঠিনও কিছু নয়। পরিশ্রম আর অধ্যবসায় আর ঐকান্তিকতা থাকলে শেয়ার বাজার আর মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগের রাস্তাই আপনার কোটিপতি হওয়ার স্বপ্ন সত্যি করে দিতে পারে। তবে আনাড়ির মতো কিছু না জেনে না বুঝে চোখ কান বুজে মাঠে নামলে চলবে না। ধীর স্থির অধ্যবসায়ের মাধ্যমে এই বিষয়গুলোকে ভালো করে জেনে তারপর বিনিয়োগে নামতে হবে। আর আপনি যদি সঠিক জ্ঞান নিয়ে সঠিক কৌশলে বিনিয়োগ করেন তাহলে আপনার কোটিপতি হওয়ার স্বপ্ন বাস্তবে পরিণত হবে। এ বিষয়ে নিজে নিজে স্টাডি যেমন করা যায়, তেমনি কোর্সও করা যেতে পারে, আবার দক্ষ ও অভিজ্ঞ সঠিক পরামর্শদাতাদের সাহায্যও নেওয়া যেতে পারে।
তবে কথা হল মিউচুয়াল ফান্ডের ক্ষেত্রে যেমন ভালো ফান্ডে বিনিয়োগ করতে হবে, তেমনি শেয়ার মার্কেটের ক্ষেত্রে ভালো শেয়ারে বিনিয়োগ করতে হবে এবং এই বিনিয়োগ হতে হবে অবশ্যই দীর্ঘস্থায়ী বা লঙ-টার্ম বিনিয়োগ। ভালো ফান্ডে ও ভালো শেয়ারে লং টার্ম বিনিয়োগে আপনার বিনিয়োগকৃত পয়সা বহু গুণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আর এটাই হলো কোটিপতি হওয়ার ম্যাজিক ফর্মুলা।
মিউচুয়াল ফান্ডের ক্ষেত্রে বিনিয়োগ করতে হবে অবশ্যই ইকুইটি ফান্ডে। ইকুইটি ফান্ডে বিনিয়োগ বেশি ঝুঁকিপূর্ণ, আবার বেশি লাভজনক ও। ডেট ফান্ডে বিনিয়োগ করে কখনোই কোটিপতি হওয়া সম্ভব নয়। সেই সম্ভাবনার পথ খুলে দিতে পারে একমাত্র ইকুইটি ফান্ড। লার্জক্যাপ ফান্ড, মিডক্যাপ ফান্ড, স্মলক্যাপ ফান্ড, মাল্টিক্যাপ ফান্ড ইত্যাদি বিভিন্ন ধরনের ফান্ডে বিনিয়োগটাকে ডাইভারসিফাই করতে হবে। অর্থাৎ একই ধরনের ফান্ডে সব টাকা বিনিয়োগ না করে বিভিন্ন ধরনের ইকুইটি ফান্ডে বিনিয়োগটাকে ছড়িয়ে দিতে হবে। তাহলেই হবে কেল্লাফতে। আপনাকে ধৈর্য ধরতে হবে, অস্থির অধৈর্য হলে চলবে না। দু চার বছর পর আপনার বিনিয়োগকৃত মিউচুয়াল ফান্ডের গ্রোথ দেখলেই আপনি বুঝতে পারবেন যে ১০ বছর পর এটা কোথায় পৌঁছাবে।
একইভাবে শেয়ার বাজারেও আপনাকে বিভিন্ন রকমের শেয়ারে বিনিয়োগ করতে হবে। এই শেয়ারগুলো হতে হবে নামি কোম্পানির ভালো শেয়ার, যার গ্রোথ বেশি, যার ফান্ডামেন্টাল ভালো।
শেয়ারের ক্ষেত্রেও লার্জক্যাপ, মিডক্যাপ, স্মলক্যাপ ইত্যাদি সব ধরনের শেয়ারে বিনিয়োগ করতে হবে। ভালো শেয়ার কোনগুলো, কোনগুলো দীর্ঘ মেয়াদে অনেক বড় রকমের রিটার্ন দেবে সে বিষয়ে আপনাকে কিছুটা স্টাডি অবশ্যই করতে হবে। এটা কঠিন কিছু নয়। একটু খোঁজখবর নিলে, পড়াশোনা করলে বা চোখ কান খোলা রাখলে এটুকু জানতে বুঝতে খুব বেশি অসুবিধা হয় না। এ বিষয় নিয়ে চর্চা করতে করতে আপনি অবশ্যই অভিজ্ঞ হয়ে উঠবেন, পাকা খেলোয়াড় হয়ে উঠবেন। এ বিষয়ে আপনার পরিষ্কার স্বচ্ছ জ্ঞান, ঝুঁকি নেওয়ার সাহস, বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে সঠিক কৌশলে বিনিয়োগ আপনাকে দ্রুত অল্প সময়ের মধ্যেও আপনার লক্ষ্যে পৌঁছে দিতে পারে।
তাই আপনার মনে যদি স্বপ্ন থাকে, নগণ্য মানুষ হিসেবে বেঁচে না থেকে ব্যতিক্রমী বড় কিছু করার চিন্তাভাবনা যদি আপনার মনের মধ্যে থাকে, তাহলে একদম দেরি না করে আপনার স্বপ্ন পূরণের অঙ্গীকার নিয়ে আপনি মাঠে নেমে যেতে পারেন। খেলতে খেলতে অবশ্যই আপনি একদিন বড় খেলোয়াড় হয়ে উঠবেন তাতে সন্দেহ নেই। তবে শুধু এটুকুই মনে রাখবেন, অন্ধকারে চোখ কান বুজে পথ চলবেন না, চোখ কান খোলা রেখে ভালো করে পথ চিনে চিনে সামনের দিকে এগিয়ে যান, আপনার লক্ষ্যে পৌঁছাবার স্বপ্নকে কেউ আটকে রাখতে পারবেনা। সাফল্যের মুকুট আপনার মাথায় উঠবেই।
